অমুসলিম মাত্রই কি কাফির?

 

প্রশ্ন: শেইখ, বর্তমান সময়ে কিছু স্কলারকে আমি বলতে শুনেছি যে তারা বলেন – ‘কাফির’ হলো শুধুমাত্র তারাই যারা ইসলামের সত্যতা সম্বন্ধে নিশ্চিত হওয়ার পরও তার বিরোধিতা করেছে। যাদেরকে দাওয়াহ দেওয়া হয়নি, যারা ইসলাম সম্পর্কে নিশ্চিত জ্ঞান পায়নি, তারা অমুসলিম, কিন্তু ‘কাফির’ নয় – এ সম্পর্কে আপনার মতামত কী?

(প্রশ্নটি আমি শেইখ ইয়াসির কাযিকে তাঁর ২০১৬ সালের  গ্রীষ্মে টরন্টোতে নেওয়া ‘নো ডাউট’ সেমিনারে জিজ্ঞেস করেছিলাম।)

শেইখ ইয়াসির কাযি: ইসলামের প্রথম থেকেই অমুসলিমদেরকে কাফির বলা হতো। ইসলামে মানুষ দুই প্রকার – মুসলিম ও কাফির – এর মাঝামাঝি কিছু নেই। আমরা যদি কুরআন ও সুন্নাহর দিকে তাকাই তাহলে দেখব যে, আমাদের শরিয়ার সকল বিধিবিধানে হয় মুসলিমের কথা বলা হয়েছে, নতুবা কাফিরের কথা বলা হয়েছে, মাঝামাঝি কোনো টাইপের কথা বলা হয়নি।

তুমি যে মাঝামাঝি টাইপের কথা বলছ এদের জন্য বিভিন্ন লেনদেনের বিধান কী হবে? আমরা জানি যে, মুসলিম সন্তান কাফির পিতার সম্পদের উত্তরাধিকারী হতে পারে না, কিন্তু কাফির সন্তান উত্তরাধিকারী হতে পারে। তাহলে আমাকে বলো, মাঝের টাইপের জন্য এর বিধান কী হবে? আবার, মুসলিম শুধু মুসলিমকে বিয়ে করতে পারে, কাফিরকে বিয়ে করতে পারে না (আহলে কিতাবের ব্যতিক্রম ছাড়া)। তাহলে এই মাঝের ক্যাটাগরির জন্য বিধান কী হবে? বিয়ে করা যাবে? নাকি, যাবে না? কারণ, তোমার প্রস্তাব মতে এরা মুসলিমও নয়, আবার কাফিরও নয়! কাজেই, আমাদের শরিয়ায় মুসলিম ও কাফির বাদে তৃতীয় প্রকার ধার্মিক নিয়ে আসার কোনো অবকাশ নেই।

আসলে অমুসলিমদেরকে কাফির না বলার প্রবণতা শুরু হয়েছে ‘কাফির’ শব্দটির কালচারাল ব্যবহার থেকে। ইসলামের প্রথম থেকেই ‘কাফির’ বলতে সব ধরনের অমুসলিমদেরকেই বুঝানো হয়েছে। কিন্তু, সময়ের পরিক্রমায় ও কালচারাল প্রভাবে ‘কাফির’ শব্দটির সাথে বিভিন্ন নেতিবাচক দোষ (যেমন – মিথ্যা কথা বলা, যুলুম করা ইত্যাদি) জুড়ে গেছে। ফলে, কাফির বলতেই আমরা মানবিক স্কেলে খারাপ মানুষদেরকে বুঝতে শুরু করেছি। কিন্তু, এই বুঝের সাথে ইসলামের কোনো সম্পর্ক নেই। কুরআন ও সুন্নাহতে কাফির হলো অমুসলিম। এখন তার মধ্যে অন্য ভালো গুণাবলী থাকলেও সে কাফির, না থাকলেও সে কাফির। তাকে দাওয়াহ দেওয়া হলেও সে কাফির, না দেওয়া হলেও সে কাফির। সকল শার’ঈ বিধানের ক্ষেত্রে আমরা তাকে কাফির হিসাবে বিবেচনা করব।

পাশাপাশি, একথাটিও মনে রাখতে হবে যে, গালাগালি করার উদ্দেশ্যে আমরা কাউকে’কাফির’ বলে ডাকব না। আর এটাও মনে রাখতে হবে যে, কোনো কাফির ব্যক্তি দোজখে যাবে না বেহেশতে যাবে তা নিয়েও আমরা কোনো মন্তব্য করব না। আমরা বলব – সাধারণভাবে, কাফিররা দোজখে যাবে। কিন্তু, একজন নির্দিষ্ট কাফির (যেমন – মাদার তেরেসা বা আইজাক নিউটন) দোজখে তখনই যাবে যখন সে ইসলাম সম্পর্কে যথেষ্ট পরিমাণ জানার পরেও তা গ্রহণ করেনি। আর এই চুড়ান্ত বিচার শুধু আল্লাহই করতে পারেন।

ওদের সবাই জাহান্নামী নয়

crowd-of-people-1024x682

দুই বন্ধুর মধ্যে কথা হচ্ছিল।

১ম বন্ধু: দোস্ত জুম’আর নামাজের আজান হয়ে গেছে, চল নামাজ পড়তে যাই।

২য় বন্ধু: নারে দোস্ত, আজকে সকালে অনলাইনে একটা লেখা পড়লাম, তারপর থেকে মনটা কেমন খচ খচ করছে। একদম নামাজ পড়তে যেতে ইচ্ছা করছে না।

১ম বন্ধু: কেন, কি পড়েছিস?

২য় বন্ধু: ওখানে লেখক কিছু প্রশ্ন করেছেন। তিনি বলেছেন – পৃথিবীর মাত্র এক-চতুর্থাংশ মানুষ মুসলিম, আর বাকী তিন-চতুর্থাংশ মানুষ অমুসলিম। এই সব অমুসলিম মানুষগুলোর মধ্যে কত ভালো মানুষ আছে, তারা সবাই শুধু মুসলিম না হওয়ার কারণে কেন জাহান্নামে যাবে? আবার দেখ, কত মানুষ আছে যারা ইসলামের কথা ঠিক মতো কোনদিন শুনেনি, তারাই বা কেন জাহান্নামে যাবে? চিন্তা করে দেখ, যারা অমুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছে তাদের জন্য ইসলাম সম্পর্কে জেনে মুসলিম হওয়া কত কঠিন একটা ব্যাপার। লেখক আরো লিখেছেন – দুনিয়ার কোটি কোটি মানুষ শুধু মাত্র অমুসলিম হওয়ার কারণে জাহান্নামে যাওয়াটা বিরাট অন্যায়। কিন্তু, ইসলাম যেহেতু এরকম অন্যায়ের পক্ষে মত দেয়, কাজেই ইসলাম কিছুতেই সত্য ধর্ম হতে পারে না!

১ম বন্ধু: হা হা হা! তোর কি ধারণা একজন মানুষ অমুসলিম হলেই নিশ্চিত জাহান্নামে যাবে?

২য় বন্ধু: তাই তো জানি!

১ম বন্ধু: তুই বড্ড ভুল জানিস রে দোস্ত! তোর এইসব প্রশ্নের উত্তর আজ থেকে প্রায় হাজার বছর আগে কোরআন – হাদিস ঘেঁটে আল-গাযালী,  ইবনে তাইমিয়াহ এর মত জায়ান্ট স্কলারেরা দিয়ে গেছেন। ইসলাম খুবই লজিকাল একটা ধর্ম আর আল্লাহ হলেন সবচাইতে দয়ালু ও ন্যায়বিচারক। আমি তোকে গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি দোস্ত – আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা নির্বিচারে সব অমুসলিমকে জাহান্নামে ছুঁড়ে দিবেন না, আবার শুধু কালেমা পড়ার কারণেই কাউকে জান্নাত দিয়ে দিবেন না। এখন চল নামাজে চল, এখুনি খুতবা শুরু হয়ে যাবে, নামাজের পর তোকে বুঝিয়ে বলছি …

 

চার  শ্রেণীর  অমুসলিম

ইমাম আল-গাযালী সমস্ত অমুসলিমকে তিন শ্রেণীতে ভাগ করেছেন [২]। পরবর্তীকালের স্কলারেরা সেই শ্রেনীবিভাগকে বর্ধিত করে সমস্ত অমুসলিমকে চার শ্রেণীতে বিভক্ত করেছেন [৩,৫,৬]।

১ম শ্রেণী  যারা কখনোই ইসলামের কথা শুনেনি। যেমন – আফ্রিকার কোন জংগলের অধিবাসীরা যারা কোনদিন কোন মুসলিম এর সাক্ষাত পায়নি, ইন্টারনেট বা টেলিভিশন বা রেডিওর মাধ্যমেও ইসলাম সম্পর্কে জানতে পারেনি। জন্মগতভাবে প্রতিবন্ধী বা প্রাপ্ত-বয়স্ক হওয়ার আগে মারা গেছে, এমন বাচ্চারাও এই ক্যাটাগরীতে পড়বে।

২য় শ্রেণী  যারা ইসলাম সম্পর্কে শুনেছে কিন্তু সঠিক তথ্য পায়নি। যেমন – বর্তমানে এই বিশ্বে এমন অনেক অমুসলিম আছেন যারা ইসলাম সম্পর্কে জানার জন্য মূলত এমন টিভি চ্যানেল ও ওয়েবসাইটের উপর নির্ভরশীল যেগুলোতে ইসলাম সম্পর্কে সঠিক তথ্য তুলে ধরা হয় না।

৩য় শ্রেণী  যারা ইসলাম সম্পর্কে শুনেছে, সঠিক তথ্যও পেয়েছে, কিন্তু তারপরেও ইসলামের সত্যতা নিয়ে তাদের মধ্যে জেনুইন সন্দেহ আছে। সম্ভবত, এদের মনে ইসলাম সম্পর্কে এমন কিছু প্রশ্ন আছে যেগুলোর উত্তর তারা এখনো ঠিকমত পায়নি। বর্তমান যুগে বহু আমেরিকান ও ইউরোপিয়ান এই শ্রেণীতে পড়বে। এছাড়া, রাসূলুল্লাহ(সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সীরাহ পাঠ করলেও আমরা এই শ্রেণীর লোকের উদাহরণ পাবো।  যেমন- রাসূলুল্লাহ(সা) যখন ইসলাম প্রচার করতেন তখন কুরাইশ গোত্রের এমন অনেকেই ছিল যারা প্রথম দিকে আসলেই মনে করতো যে রাসূলুল্লাহ(সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সত্য নবী নন। কিন্তু পরবর্তীতে একের এক যুদ্ধে মুসলিমদের অলৌকিক বিজয় দেখে তারা কনভিন্সড হয়েছেন এবং ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে সাহাবী হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন। শাইখ ইয়াসির কাদি বলেন – আবু সুফিয়ান এবং ইকরিমা বিন আবু জেহেল এই শ্রেণীতে পড়ে।

আবু সুফিয়ান এর জেনুইন সংশয় [৫]:  মুসলিমরা যখন মক্কা বিজয় করতে যাবে তার ঠিক আগের রাতে কুরাইশ নেতা আবু সুফিয়ান নিশ্চিত পরাজয় উপলব্ধি করতে পেরে রাসূলুল্লাহ(সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর কাছে কিছু অনুরোধ নিয়ে আসেন। রাসূলুল্লাহ(সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে প্রশ্ন করেন: “হে আবু সুফিয়ান! তোমার উপর দু:খ হচ্ছে  এ জন্য যে, আল্লাহ ছাড়া আর কোন উপাস্য নেই – এই মহাসত্য উপলব্ধি করার সময় কি এখনো তোমার হয়নি?” উত্তরে রাসূলুল্লাহ(সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর প্রশংসা করার পর আবু সুফিয়ান বলেছিলেন: “ঐ ব্যাপারে এখনো কিছু না কিছু সংশয় তো আছেই” (আর রাহিকুল মাখতুম – পৃষ্ঠা ৪৬০)।  আবু সুফিয়ানের ব্যাপারে তাই অনেক স্কলারেরই মতামত হলো –  ইসলাম গ্রহণের পূর্বে তিনি মনে প্রাণেই বিশ্বাস করতেন যে ইসলাম সত্য ধর্ম নয় [১১]। লক্ষ্যনীয় যে –  ইনি সেই আবু সুফিয়ান যিনি বদর-উহুদের যুদ্ধে কুরাইশ বাহিনীর নেতৃত্ব স্থানে থেকে বহু সাহাবীকে হত্যা করেছেন। অথচ, এই আবু সুফিয়ানই পরবর্তীতে ইসলাম ধর্ম গ্রহন করেন এবং  ইয়ারমুকের যুদ্ধে একজন মুসলিম  সেনাপতি হিসাবে লড়াই করতে যেয়ে  তাঁর চোখ হারান।

ইকরিমা ইবনে আবি জেহেল এর জেনুইন সংশয় [৬]:  মুসলিমরা যখন রাসূলুল্লাহ(সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নেতৃত্বে মদীনা থেকে মক্কাকে দখল করার উদ্দেশ্যে যাত্রা করে আসে, তখন কুরাইশবাসীরা বুঝতে পেরেছিল শক্তিশালী মুসলিম বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করা ছাড়া তাদের আর কোনো পথ নেই। ফলে তারা মুসলিমদেরকে প্রতিহত করার আর কোন চেষ্টাই করেনি। ব্যতিক্রম ছিলো – ইকরিমা ইবনে আবি জেহেল, যে কিনা তার কিছু অনুসারী নিয়ে লড়াই করে মুসলিমদের প্রতিহত করার চেষ্টা করে। এই লড়াইয়ে সে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয় এবং দ্রুত মক্কা ছেড়ে পালিয়ে যায়। মক্কা থেকে সে জেদ্দায় যায়, ওখান থেকে জাহাজে করে আবিসিনিয়ার হাবাশার উদ্দেশ্যে  যাত্রা শুরু করে। ঐ জাহাজের সবাই মূর্তিপূজারী ছিল। পথিমধ্যে জাহাজটা ভয়াবহ ঝড়ের কবলে পড়ে, বাঁচার যেন আর কোন আশাই নাই। তখন ঐ জাহাজের ক্যাপ্টেন যাত্রীদেরকে উদ্দেশ্য করে বলল: “এই ঝড় থেকে বাঁচার মতো ক্ষমতা আমাদের জাহাজের নাই, আমরা নিশ্চিত ডুবতে যাচ্ছি।  কাজেই, এখন সময় হলো সত্য প্রভু আল্লাহর কাছে দু’আ করার। আল্লাহর কসম করে বলছি, তোমরাও জানো আর আমিও জানি যে আমাদের মিথ্যা প্রভুরা এই বিপদ থেকে আমাদের উদ্ধার করতে পারবে না।” এই ঘটনার বর্ননা ইকরিমা নিজেই করেছে এবং বলেছে: “ঠিক এই সময়ে আমার মনে হলো, আমাদের প্রভুরা যদি আমাদের দরকারের সময়ই আমাদেরকে সাহায্য না করে, তাহলে কেন আমরা সেই প্রভুর উপাসনা করব যাকে ছাড়াই আমরা চলতে পারি।” ইকরিমার এই বক্তব্যে বুঝা যায়, সে আসলেই এতদিন মনে করতো যে মূর্তিগুলো তাদের প্রভু এবং রক্ষাকর্তা। ঝড়ের কবলে পড়ে সে উপলব্ধি করতে পারে যে, সে এতদিন যাদের প্রভু বলে জানতো তারা আসলে শুধুই কিছু মূর্তি। এই উপলব্ধির পরপরই ইকরিমা মক্কায় ফিরে যেয়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়।

ইনি সেই ইকরিমা যিনি দীর্ঘ ২০ বছর রাসূলুল্লাহ(সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি সাল্লাম) এর সাথে জঘন্য আচরণ করেছে, নির্যাতন করেছে, মক্কায় ইসলামের সবচাইতে বড় শত্রুদের মধ্যে সে ছিল অন্যতম। অথচ, ইসলামের সত্যতা অনুধাবনের পর তিনি একজন কৃতি মুসলিম সেনাপতি হিসাবে একাধিক যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন এবং অবশেষে ইয়ারমুকের যুদ্ধে তিনি শহীদ হন।

 

৪র্থ শ্রেণী – যারা ইসলাম সম্বন্ধে সঠিক তথ্য পেয়েছে এবং নিশ্চিতভাবে বুঝতে পেরেছে যে এটাই একমাত্র সত্য ধর্ম, কিন্তু তারপরেও ইসলাম গ্রহণ করেনি। এরা ইসলামের সত্যতা নিয়ে এতটাই নিশ্চিত যতটা নিশ্চিত আবু জেহেল, আবু লাহাবেরা ছিল [৩]। কিন্তু, এরা ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে না শুধুমাত্র এই কারণে যে তারা তাদের পূর্বপুরুষের অনুসরণ করতে চায়, টাকা-ক্ষমতা আঁকড়ে ধরে রাখতে চায় অথবা তাদের নিজেদের খেয়াল-খুশীর অনুসরণ করতে চায়।

যারা ৪র্থ শ্রেণীতে পড়েছে শুধু তারাই নিশ্চিত জাহান্নামী হবে। কিন্তু, তাই বলে আমি বা আপনি কোন অমুসলিমকে জাহান্নামী বলতে পারবো না। কারণ, কোনও অমুসলিম ৩য় না ৪র্থ শ্রেণীতে পড়বে তা শুধুমাত্র আল্লাহই বলতে পারবেন। আমাদের পক্ষে জানা সম্ভব নয় সে ইসলাম সম্বন্ধে কতটুকু জানতো, আমাদের পক্ষে এটাও জানা সম্ভব নয় কি তার নিয়ত ছিল, বা মৃত্যুর আগে সে কি ভেবেছিল। আবার অন্যদিকে, অমুসলিমের মৃত্যুর পর তার জন্য আমরা দু’আ করতে পারবো না বা RIP ও বলতে পারবো না। কারণ, অমুসলিম মৃত ব্যক্তির জন্য দু’আ করা ইসলামে নিষেধ [৯]।

 

এবার আসা যাক ১ম ও ২য় শ্রেণীর মানুষদের প্রসঙ্গে। পরকালে এদের বিচার একইভাবে হবে কারণ ইসলাম সম্পর্কে তাদের জ্ঞানের  প্রকৃত অবস্থা একই। নিচে এদের পরিণতী নিয়ে আলোচনা করা হলো।

 

যারা  এই  জীবনে  ইসলাম  সম্পর্কে  শুনেনি  পরকালে  তাদের  বিচার  কিভাবে  হবে ?

এদের সম্পর্কে ইবনে তাইমিয়া  [২] যা বলেছেন তার সারমর্ম হলো এইরকম: সৃষ্টিকর্তার একত্ববাদে বিশ্বাস মানুষের জন্মগত বোধ (ফিতরা) এর অন্তর্ভুক্ত। প্রতিটা মানুষ তার বোধ হওয়ার সাথে সাথেই যেমন বুঝতে পারে সর্বদা তার সত্য কথা বলা উচিত, সবার সাথে ভালো ব্যবহার করা উচিত – তেমনিভাবেই সে জানে তার এমন এক সৃষ্টিকর্তা রয়েছেন যিনি সব কিছুর উপর নিয়ন্ত্রণাধীন এবং শুধু তাঁরই ইবাদত করা উচিত। (বৈজ্ঞানিক গবেষনাও এর প্রমাণ বহন করে[১০] )। কাজেই, কোন মানুষের কাছে যদি ইসলাম এর সঠিক বাণী না-ও পৌঁছায়, তবুও তার উচিত এক স্রষ্টা ছাড়া অন্য কোন মূর্তি বা অন্য কিছুর উপাসনা না করা। শরীয়ার ভাষায় এই মানুষগুলোর উচিত হলো তাদের “ফিতরা”কে অনুসরণ করা। যেমন – নবুয়ত প্রাপ্তির আগে রাসূলুল্লাহ(সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম), আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) তাদের “ফিতরা” অনুযায়ী জীবনযাপন করতেন।

কেউ যদি এক আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো উপাসনা করে, তাহলে আল্লাহ চাইলে তাকে শিরকের অপরাধে শাস্তি দিতে পারতেন, এমনকি যদি সেই ব্যক্তির কাছে কোন নবী/রাসূলের বাণী না-ও পৌঁছে থাকে, এটা করলেও ন্যায়বিচার হতো – কারণ আল্লাহ তো মানুষকে “ফিতরা” দিয়েই পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন। কিন্তু, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা হলেন পরম দয়ালু, তাঁর দয়া তাঁর ন্যায়বিচারের চেয়ে বেশী। আর এই দয়ার অংশ হিসাবে তিনি দুনিয়াতে নবী-রাসূল পাঠান। আর তাই যেসব মানুষের কাছে ইসলামের বাণী সঠিকভাবে পৌঁছায়নি, আল্লাহ তাদের বিনা পরীক্ষায় শাস্তি দিবেন না। কারন, তিনি বলেছেন:

কোনো রাসূল (বার্তাবাহক) না পাঠানো পর্যন্ত আমি কাউকে শাস্তি দেই না। [সূরা ইসরা ১৭:১৫ আয়াতাংশ]

যারা এই দুনিয়ায় রাসূলের বাণী ঠিক মতো পায়নি, তাদের ঈমানের পরীক্ষা নেয়া হবে বিচার দিবসে। সেদিন তাদের কে একত্র করে আল্লাহ জিজ্ঞেস করবেন – “তোমাদের কাছে যদি আমার নবী পৌঁছাত তোমরা কি করতে”? তারা অবশ্যই উত্তর দিবে – “আমরা বিশ্বাস করতাম”। এর কিছুক্ষণ পরে আল্লাহ তাদের কাছে একজন ফেরেশতা পাঠাবেন এবং তারা তাকে ফেরেশতা হিসাবে চিনতে পারবে। সেই ফেরেশতা তাদেরকে একটা জ্বলন্ত আগুনের কূপ দেখিয়ে বলবে – “আল্লাহ তোমাদেরকে এই আগুনে ঝাঁপ দিতে বলেছেন”। যারা তখন ঐ ফেরেশতার কথা শুনে আগুনে ঝাঁপ দিবে, তখন ঐ আগুন তাদের জন্য জান্নাত হয়ে যাবে। অন্যদিকে যারা ঐ আগুনে ঝাঁপ দিবে না, তাদেরকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।  মুসনাদ ইমাম আহমদ ও সহীহ ইবনে হিব্বানে এই হাদিসটি পাওয়া যায়। [১,৩,৪]

 

শেষ কথা:

মহান আল্লাহ সুবহানাওহু ওয়া তা’আলা হলেন আল-আদল (العدل ) বা ন্যায়বিচারক। বিচার দিবসে প্রত্যেকটি মানুষ নিশ্চিতভাবেই জানবে – যে পুরষ্কার বা শাস্তি তার প্রাপ্য ছিলো ঠিক তা-ই সে পেয়েছে, কারো প্রতি এক চুল অবিচার হয়নি। অমুসলিমদের যেমন দায়িত্ব আছে তাদের ফিতরাহ (Natural Inclination) এর অনুসরণ করে একক প্রভুর ধর্মকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করা, তার চেয়েও বেশী দায়িত্ব হলো মুসলিমদের উপর – তার নিজের ধর্মকে জানা, পালন করা ও প্রচার করা [৮]।

নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী ইসলাম শেখা, পালন করা ও প্রচার করা প্রত্যেক মুসলিমের উপর ফরজ। ইসলাম প্রচার করার অর্থ এই নয় যে, দেখা হলেই মানুষকে ইসলামের কথা বলে বলে বিরক্ত করে ফেলতে হবে। বরং, আমরা যদি কমপক্ষে নিজে ভালো মত ইসলাম পালন করি এবং নিজের চরিত্র ও ব্যবহার সুন্দর করে তুলতে পারি, তাহলে মানুষ সহজেই আমাদের মাধ্যমে ইসলামের প্রতি আকর্ষিত হবে [৭]। আমি নিজে এভাবেই প্র্যাক্টিসিং মুসলিমদের ভালো ব্যবহারে মুগ্ধ হয়ে ইসলামের পথে এসেছি। (উল্লেখ্য, ইসলাম প্রচারের আরো বিভিন্ন লেভেল আছে, সেগুলো জানার জন্য [৮] পড়ুন)

আমরা যত বেশী ইসলামকে জানবো ততই একে ভালোবাসতে পারবো, আর বুঝতে পারবো ইসলাম একটি অত্যন্ত ব্যালেন্সড ধর্ম। মহান আল্লাহ কারো প্রতি অবিচার করেন না, কারো প্রতি তিনি অবিচার করবেন না। অবিচার করি আমরা মানুষেরা – অন্যের প্রতি এবং নিজের প্রতিও।

 

রেফারেন্স:

১। Yasir Qadhi on The fate of those who never heard of Islam – http://youtu.be/H4PPwrvFTTk?t=6m6s

২। Salvific Exclusivity – Yasir Qadhi

http://muslimmatters.org/2014/04/11/salvific-exclusivity-i-shaykh-yasir-qadhi/

৩। Shaykh Arifi on The fate of those who never heard of Islam – http://youtu.be/JgdmhxIa56M

৪। IslamQA on The fate of those who never heard of Islam – http://islamqa.info/en/1244

৫। Seerah Pt. 77 – Yasir Qadhi http://youtu.be/EaVuirmtlZE?t=51m49s

৬। Seerah Pt. 78 – Yasir Qadhi http://youtu.be/-LWiMqBKIvQ?t=53m44s

৭। Light of Guidance – based on lectures of Shaykh Yasir Qadhi

৮। Word of Advice Ragarding Dawah – Shaykh Bin Baaz

৯। Can we pray for the non-Muslims who passed away? – Seeker’s guidance

http://seekersguidance.org/ans-blog/2011/05/23/can-we-pray-for-non-muslims-who-passed-away/

১০। Children are born believers in God, academic claims

http://www.telegraph.co.uk/news/religion/3512686/Children-are-born-believers-in-God-academic-claims.html

১১। Fate of non-Muslims – Shaykh Hamza Yusuf

http://youtu.be/cA67nSAZ7HY

 

 

তোমার দ্বীন কি?

debt

ক্লাসের সবার সামনে অনেক ভালো একটা প্রেসেন্টেশন দিয়েছেন আপনি। নিজের পারফর্মেন্সে বেজায় খুশী। এবার কোয়েশ্চান-আনসার সেশন শুরু। প্রথম প্রশ্নকর্তা প্রশ্ন করলো। আপনি প্রশ্নটি শুনতে পেলেন ঠিকই কিন্তু বুঝতে পারলেন না, কারণ সে তার প্রশ্নে এমন একটা টেকনিক্যাল ওয়ার্ড ব্যবহার করেছে যার সাথে আপনি পরিচিত নন। আপনি হাল্কার উপর যা বুঝেছেন সে অনুযায়ী যেই উত্তর দেয়া শুরু করেছেন প্রশ্নকর্তা আপনাকে থামিয়ে দিলো। স্পষ্ট ভাবে আপনাকে আবার জিজ্ঞেস করলো – ‘আমি জানতে চাচ্ছি &)$%#@ টা আপনি কিভাবে ভ্যালিডেট করেছেন?’ আপনি কোনরকম একটা উত্তর দিতে গেলে সে আবার আপনাকে থামিয়ে দৃঢ়ভাবে প্রশ্ন করলো। আপনার মাথা বেয়ে দর দর করে ঘাম ঝরা শুরু করলো, ভাবতে লাগলেন প্রশ্নকর্তা যা বুঝাতে চাচ্ছে তাই যখন বুঝি না তখন উত্তর দিবো কিভাবে? এইরকম অভিজ্ঞতার সম্মুখীন আপনি কখনো হয়েছেন কিনা আমি জানি না, কিন্তু আমি আমার থিসিস সুপারভাইজার এর সামনে এই অবস্থায় অনেকবার পড়েছি।   

আমাদের মৃত্যুর পর আমাদের কবরে দুইজন ফেরেশতা আসবে। এসে শোয়া অবস্থা থেকে উঠিয়ে বসাবে, তারপর আমাদেরকে তিনটা প্রশ্ন জিজ্ঞেস করবে। এর মধ্যে দ্বিতীয় প্রশ্নটা হলো –

 ما دينك – মা দিনুকা (তোমার দ্বীন কি)?

প্রশ্নটির মূল শব্দ হলো দ্বীন (دين)। কাজেই, আমরা যদি চাই এই প্রশ্নের উত্তর ঠিকমতো দিতে চাই তাহলে আগে দ্বীন শব্দের অর্থ বুঝতে হবে।  সাধারনভাবে দ্বীন শব্দটির অনুবাদ যদিও বলা হয়ে থাকে ‘ধর্ম’, কিন্তু আরবীতে দ্বীন শব্দটির অর্থ ব্যাপক। আপনি যখন জানবেন আরবীতে দ্বীন বলতে কি বুঝায় তখন চমৎকৃত না হয়ে থাকতে পারবেন না।

১ – দ্বীন শব্দের মূল অর্থ হলো ঋন বা দেনা। আমরা প্রত্যেকেই আল্লাহ্‌র কাছে ঋনী কারণ তিনি আমাদের সৃষ্টিকর্তা, পালনকর্তা, রিজিকদাতা – আর ‘দ্বীনুল ইসলাম’ বলে কিভাবে আমরা আল্লাহ্‌র কাছে আত্মমর্পণের মাধ্যমে (ইসলাম শব্দের অর্থ submission বা আত্মসমর্পণ – বিস্তারিত পরে আলোচনা করা হবে) তাঁর ঋন পরিশোধ করবো।  দ্বীনুল ইসলাম শুধু আল্লাহ্‌র ঋণ কিভাবে পরিশোধ করতে হবে তাই বলে না, কিভাবে মা-বাবা ও অন্য মানুষের সাথে ভালো ব্যবহার ও প্রাপ্য অধিকার দেয়ার মাধ্যমে তাদের ঋণ পরিশোধ কিভাবে করতে হবে তাও বলে। জীবনের প্রতি আমাদের যে দায়বদ্ধতা, বাবা-মা ও অন্য মানুষদের প্রতি আমাদের যে দায়বদ্ধতা আমরা প্রত্যেকেই তা কোন না কোন ভাবে পালন করে থাকি। এই দায়বদ্ধতা যদি আমরা আল্লাহ্‌ ও তাঁর রাসূল(সা) এর দেখানো পথে পালন করে থাকি তাহলে আমাদের দ্বীন ইসলাম, কিন্তু যদি আল্লাহ-রাসূলের কথার তোয়াক্কা না করে নিজের খেয়াল-খুশীমতো চলাফেরা করে থাকি, তাহলে আমরা নামে মুসলিম হলেও আমাদের প্রকৃত দ্বীন অন্যকিছু।

আর যে কেউ ইসলাম ব্যতীত অন্য কোন দ্বীন কামনা করলে তা তার থেকে কখনোই গ্রহণ করা হবে না এবং আখিরাতে সে হবে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত। (সূরা আলে ইমরান ৩:৮৫)

২ – দ্বীন শব্দটির শব্দমূল (root word) হলো ‘দা ইয়া না (د ي ن)’। এর একটা অর্থ হলো কোনও কিছুকে ডিসিপ্লিন করা। রাসূলুল্লাহ(সা) প্রশংসা করেছেন যে তার নফস কে নিয়ন্ত্রণ করে (মানদাহা নাফসাহু) (তিরমিযী)। আল্লাহ্‌র নির্ধারিত সীমা অনুযায়ী যে তার চাহিদাকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করে তার দ্বীন হলো ইসলাম। আল্লাহ আমাদেরকে ৫ ওয়াক্ত নামাজের মাধ্যমে নিজেকে ডিসিপ্লিন করতে বলেছেন। কিন্তু আমরা যদি ইচ্ছা হলে নামাজ পড়লাম, আর ইচ্ছা হলে ছাড়লাম করতে থাকি – তাহলে আমরা ইসলামের মাধ্যমে আমাদের জীবনকে ডিসিপ্লিন করতে অস্বীকৃতি জানালাম।

৩ – দ্বীন শব্দের আরেকটি অর্থ হলো বিচার দিবস। যেমন, আমরা সূরা ফাতিহায় বলি ‘মালিকি ইয়াওমিদ্দিন’ (যিনি বিচার দিনের মালিক)। বিচার দিবসে আমাদের জিজ্ঞেস করা হবে আল্লাহ ও মানুষকে তাদের প্রাপ্য দেনা আমরা বুঝিয়ে দিয়েছিলাম কিনা  – আর এর জন্য বিচার দিবসের আরেক নাম ‘ইয়াওমিদ্দিন’ বা হিসাবের দিন।

৪ –  দ্বীন শব্দের আরেকটি অর্থ হলো এমন বৃষ্টি যা বার বার ফিরে এসে পৃথিবীকে জীবন দেয় (a rain that returns again and again, and brings back earth to life)। সৃষ্টির শুরু থেকে আল্লাহ যুগে যুগে অসংখ্য নবী-রাসূলকে এই পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন। নবীদের জীবনের লক্ষ্য ছিলো তাওহীদের বানীকে প্রচার করে পৃথিবীতে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা – আর এর মাধ্যমে পৃথিবীকে পুনর্জীবিত করা। সুতরাং, যে জীবনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করার জন্য আমরা আমাদের জীবন ব্যয় করবো, সেটাই হলো আমাদের দ্বীন।

৫ – দ্বীন বলতে বুঝায় জীবন ব্যবস্থা / আর রাষ্ট্রের ক্ষেত্রে তার শাসন ব্যবস্থা। যে ব্যক্তি যে মৌলিক নিয়ম-নীতির উপর ভিত্তি করে ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নেয়, পারিবারিক সিদ্ধান্ত নেয়; যে শাসক যে সংবিধান অনুসরণ করে তার দেশ চালায় সেটাই তার দ্বীন। সূরা ইউসুফে আল্লাহ বলেছেন, ইউসুফ(আ) যখন চাচ্ছিলেন তার ভাইকে নিজের কাছে রেখে দিবেন তখন তিনি যদি মিশরের বাদশাহর সংবিধান (দ্বীন) অনুসরণ করতেন তাহলে তা সম্ভব ছিলো না।

 আল্লাহ না চাইলে বাদশাহর আইনে (দ্বীনে)  তার ভাইকে সে আটক করতে পারতো না। (সূরা ইউসুফ ১২:৭৬ আয়াতাংশ)

একটা উদাহরণ দেয়া যাক। আমার পি এইচ ডি ল্যাবে আমার সৌদি বন্ধু নাইফ আমাকে বলেছে সে আরো অনেক কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি পড়ার সুযোগ পেয়েছিলো, কিন্তু অন্য ইউনিভার্সিটিগুলো ছেড়ে তার কার্লটন ইউনিভার্সিটিতে আসার মূল কারণ হলো তার বন্ধুরা তাকে বলেছিলো যে এখানে অনেক সুন্দর নামাজ ঘর আছে। কোথায় পড়তে যাবে সেই সিদ্ধান্ত নিতে ইউনাভার্সিটির র‍্যাঙ্কের চেয়ে তার বেশী গুরুত্ব ছিলো সে ৫ ওয়াক্ত জামাতের সাথে নামাজ পড়তে পারবে কিনা। কাজেই নাইফের দ্বীন হলো ইসলাম।

 উপরের এইসব কারণে দ্বীনের সঠিক অনুবাদ হবে জীবন পরিচালনার মূলনীতি বা System of Life. 

এবার আসা যাক প্রশ্নের উত্তরে। মুসলমান মাত্রই জানে ‘মা দ্বিনুকা’ প্রশ্নের উত্তর হলো:

ديني الإسلام  দ্বীনি আল ইসলাম (আমার দ্বীন হচ্ছে ইসলাম)

কিন্তু, ইসলাম বলতে কি বুঝায় তা আমরা কয়জন মুসলিম ঠিকমতো জানি? আসুন এবার দেখি ইসলাম শব্দের অর্থ কি?

ইসলাম শব্দটির শব্দমূল হলো আল-সিলম্‌, যার অর্থ হলো আত্মসমর্পণ(Submission)।  আর ইসলাম বলতে বুঝায় আল্লাহ্‌র ইচ্ছার কাছে আত্মসমর্পণ করা। মহাবিশ্বের সকল জড় বস্তু ও প্রানী (শুধু মানুষ ও জ্বীন ছাড়া) আল্লাহ্‌র ইচ্ছার কাছে সম্পূর্ন আত্মসমর্পণ করেছে। আল্লাহ্‌ সূর্যকে যে নিয়মে বেঁধে দিয়েছেন সে সেই নিয়মে আল্লাহ্‌র কাছে নিজেকে সমর্পণ করেছে, পানি আল্লাহ্‌র ইচ্ছাতেই বয়ে চলে, জমাট বাঁধে, বাষ্প হয়। আমরা মানুষরা অনেক ক্ষেত্রে ইচ্ছাতেই হোক আর অনিচ্ছাতেই হোক সম্পূর্নভাবে আল্লাহ্‌র কাছে আত্মসমর্পণ করি – যেমন ক্ষুধা পেলে আমরা খাই, ঘুম পেলে ঘুমাই, বাথরুম চাপলে বাথরুমে যাই। আমাদের আত্মসমর্পণের বাকী অংশগুলো আল্লাহ্‌ আমাদের ইচ্ছাশক্তির উপর ছেড়ে দিয়েছেন। সে ইচ্ছাশক্তি শুধু এদিক সেদিক দৌড়ে চলে যেতে যায়। আমরা যদি জোর করে তাকে ধরে আল্লাহ্‌র হুকুমের কাছে আত্মসপর্ণ করাই তবেই আমরা মুসলিম। জিব্রাইল(আ) এর হাদিস আমাদের বলে দেয় মুসলিম হওয়ার সর্বনিম্ন কোয়ালিফিকেশন – মহান আল্লাহকে সর্বশক্তিমান প্রতিপালক বলে মনেপ্রানে বিশ্বাস করলে, রাসূলুল্লাহ(সা) যেভাবে ৫ ওয়াক্ত নামাজ পড়তে বলেছেন সেভাবে নামাজ পড়লে, রমজান মাসে রোজা রাখলে, যেভাবে যাকাত দিতে বলেছেন সেভাবে দান করলে, বুড়ো বয়সের জন্য অপেক্ষা না করে সামর্থ্য হওয়ার সাথে সাথেই হজ্জ করলে – কমপক্ষে এই পাঁচটি কাজ আল্লাহ্‌র সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে করে থাকলে আমরা মুসলিম হতে পারবো।

তারা কি আল্লাহ্‌র দ্বীন ছাড়া অন্য কোন পথ কামনা করছে? অথচ আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে সবকিছুই তাঁর কাছে ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায় আত্মসমর্পণ করেছে এবং তাঁরই দিকে সব ফিরে যাবে। (সূরা আলে ইমরান ৩:৮৩)

সৃষ্টির আদি থেকে শুরু করে আল্লাহ যুগে যুগে নবী-রাসূলদের পাঠিয়েছেন ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্য। ইসলাম ধর্মের সর্বশেষ নবী হলেন মুহাম্মদ(সা)। আমরা যতক্ষণ পর্যন্ত প্রিয় নবী মুহাম্মাদ(সা) যেটা ভালো বলেছেন সেটাকে ভালো, আর উনি যেটাকে মন্দ বলেছেন সেটাকে মন্দ বলে মেনে নিয়ে নিজেকে সমর্পণ না করে দিবো ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা মুসলিম হতে পারবো না। এ কথা সত্য যে নিজের লোভ-লালসা নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে আমরা হয়তো অনেক সময়ই পাপ কাজ করে ফেলবো, কিন্তু মুসলিম (আত্মসমর্পণকারী) সে ব্যক্তি যে নিজের সীমাবদ্ধতাকে আল্লাহ্‌র কাছে স্বীকার করে ক্ষমা চায় এবং বার বার চেষ্টা করে আল্লাহ্‌র হুকুমের কাছে নিজেকে সঁপে দিতে। আল্লাহ্‌র অবাধ্যতা সে হয়তো পুরোপুরি ছাড়তে পারে না, কিন্তু সে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে সে যা করছে তা ঠিক হচ্ছে না, আল্লাহ ও রাসূল(সা) যেটা বলেছেন সেটাই সবচেয়ে সঠিক।

খুব ইন্টারেস্টিং একটা ব্যাপারে হলো যে ‘ইসলাম’ শব্দটির ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে মৃত্যুর সাথে। কারণ, আরবীতে ‘আসলামা’ শব্দের অর্থ হলো মৃত্যু। ‘আসলামা নাফসুহু’ বলতে বুঝায় আত্মার আত্মসমর্পণ (To give up the soul)। মৃত্যুর ফেরেশতা চলে আসলে যে ব্যক্তি অমুসলিম সে তখনো গোয়ার্তুমী করতে থাকে, আল্লাহ্‌র কাছে নিজের আত্মাকে সমর্পণ করতে চায় না। ফলে, ফেরেশতারা টেনে টেনে তার শরীরের রগ ছিন্ন-ভিন্ন করে জোর করে তার আত্মাকে তার থেকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। যে ব্যক্তি সারাজীবন আল্লাহ্‌র ইচ্ছার কাছে আত্মসমর্পণ করেনি, সে মৃত্যুর সময়েও আত্মসমর্পণ করতে চাইবে না। অন্যদিকে, মুসলিম হলো সেই ব্যক্তি যার মৃত্যু ঘনিয়ে আসলে সে তার আত্মাকে সহজেই সমর্পণ করে দেয়। ফলে তার জান তার শরীর থেকে এমনভাবে বেরিয়ে আসে যেভাবে কলসির মুখ দিয়ে পানি বেরিয়ে আসে। সারা জীবন যার দ্বীন ছিলো ইসলাম (আত্মসমর্পন), মৃত্যুর সময়েও তার দ্বীন হবে ইসলাম।

বাংলাদেশে জন্মালেই বাংলাদেশী হওয়া যায়, চৌধুরী সাহেবের ঘরে জন্মালেই নামের শেষে চৌধুরী বসানো যায়, কিন্তু শুধু মুসলিম পরিবারে জন্মানোর কারণেই কারো দ্বীন ইসলাম হয় না। মুসলিমকে মনেপ্রাণে বিশ্বাস রাখতে হয় যে সব ধর্ম সমান না, ইসলাম ছাড়া আর কোনো ধর্মই আল্লাহ্‌র কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। কেউ যদি মনে করে আজ আমি হিন্দুর ঘরে জন্মালে হিন্দু হয়ে থাকতাম, খ্রীষ্টানের ঘরে জন্মালে খ্রীষ্টান হয়ে থাকতাম – একই তো কথা – সে তাওহীদ কি তাই বুঝতে পারে নি, এক আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ করার মিষ্টি স্বাদ সে পায়নি, মুসলিম পরিবারে জন্মালেও তার দ্বীন ইসলাম না।

নামের আগে মুহাম্মাদ, ঈদের সময় ঈদের নামাজ আর শুক্রবারের জুমু’আর নামাজ মুসলিম হওয়ার জন্য যথেষ্ট নয়। মুসলিম হতে হলে নিজেকে আল্লাহ্‌র দাস মনে করে পরিপূর্নভাবে আত্মসমর্পণ করতে হয়, নিজের মনে যা চায় তার উপর আল্লাহ্‌র হুকুমকে প্রাধান্য দিতে হয়, পালন করতে না পারলে মনে আফসোস থাকতে হয়। মানুষের চোখে মুসলিম হয়ে বেঁচে থেকে কি লাভ যদি আমরা আল্লাহ্‌র কাছে মুসলিম হিসাবে ফিরে যেতে না পারি?

তুমি কি লক্ষ্য করেছ তাকে যে তার খেয়াল-খুশীকে নিজের উপাস্য করে নিয়েছে? – (সূরা জাসিয়াহ ৪৫:২৩)

সূত্র:

১।  Pillars of Practice – Hamza Yusuf.

২। যা হবে মরণের পরে – আব্দুল্লাহ শাহেদ আল মাদানী, তাওহিদ পাবলিকেশন্স।

আল্লাহ্‌ এক – কথাটার অর্থ কি?

tawhid

আপনি কি জানেন যে, প্রিয়নবী মুহাম্মাদ(সা) এর ইসলাম প্রচারের পূর্বেও মক্কার কুরাইশরা সর্বশক্তিমান আল্লাহয় বিশ্বাস করতো? শুধু তাই না, তারা নিজেদেরকে ইব্রাহীম(আ) ও ইসমাইল(আ) প্রচারিত ইসলাম ধর্মের সঠিক অনুসারী বলে মনে করত। প্রিয়নবী মুহাম্মাদ(সা) যখন ইসলাম ধর্মের কথা বলা শুরু করলেন, তারা জিজ্ঞেস করলো – এ আবার কোন্‌ নতুন ধর্ম নিয়ে এসেছ তুমি? আমরা তো এক আল্লাহ্‌তেই বিশ্বাস করি! আর, তুমি কিনা বলতে চাও আমরা ভুল পথে আছি?

 

জিজ্ঞেস করো, ‘এই পৃথিবী এবং এতে যা আছে তা কার, যদি তোমরা জানো?’ তারা ত্বরিৎ বলবে, ‘তা আল্লাহর’। বলো, ‘তবুও কি তোমরা শিক্ষা গ্রহণ করবে না?’ – (সূরা মু’মিনুন ২৩:৮৪-৮৫)

সুতরাং, বুঝাই যাচ্ছে, কুরাইশবাসীরা এক আল্লাহয়  বিশ্বাস করা বলতে যা বুঝতো আর ইসলাম এক

আল্লাহয় বিশ্বাস করা বলতে যা বুঝায় এই দুইয়ের মধ্যে অবশ্যই পার্থক্য আছে। ইসলামকে কুফরী থেকে পার্থক্য করার জ্ঞান যদি আমাদের মধ্যে না থাকে, তাহলে আমরাও মুখে বলবো যে হ্যাঁ আমরা এক আল্লাহয় বিশ্বাসী, পাসপোর্টে – বার্থ সার্টিফিকেটে আমাদের ধর্ম হিসাবে ‘ইসলাম’ লেখা থাকবে, কিন্তু আল্লাহর বিচারে আমরা অমুসলিম, মুশরিক হয়ে থাকবো।

 তাওহীদ কি?

ইসলামে আল্লাহর একত্ববাদের ধারণাকে তাওহিদ বলে। যখনই তাওহীদ লংঘিত হয়, তখনি শিরক হয়। তাই তাওহিদ কে বুঝা আমাদের প্রত্যেকের জন্য খুবই জরুরী। সত্যি বলতে কি, প্রথম নবী আদম(আ) শুরু করে শেষ নবী মুহাম্মাদ(সা),সবার জীবনের উদ্দেশ্যই ছিল এই পৃথিবীতে তাওহীদ কে প্রতিষ্ঠা করা।

আলোচনার সুবিধার্থে ইসলামী স্কলারেরা তাওহিদকে তিনভাগে বিভক্ত করেছেন। এই তিনরকম তাওহিদের বর্ণনা দিয়েই মহাগ্রন্থ কোরআন শুরু এবং শেষ হয়েছে।

তাওহিদ আর রবুবিয়াহ  বলে যে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা হলেন এই সৃষ্টি জগতের রব। অর্থাৎ তিনি এই সৃষ্টিজগতের একচ্ছত্র মালিক, প্রতিপালনকারী, সৃষ্টিকর্তা এবং রক্ষনাবেক্ষনকারী। আমার জীবন, আমার ধন-সম্পদের মালিক আমি নয়, মালিক হলো আল্লাহ – তিনি আমাকে এগুলো ব্যবহার করতে দিয়েছেন মাত্র। আমাদেরকে সূর্য, বাতাস, পানি, চমৎকার এই পৃথিবী দিয়ে আল্লাহ আমাদের প্রতিপালন করছেন। তিনি আমাদের সৃষ্টি করেছেন, আর তিনিই গ্রহ-নক্ষত্র সহ মহাবিশ্বের প্রতিটি বস্তু ও প্রানীকে তাদের প্রয়োজন মিটিয়ে রক্ষনাবেক্ষণ করে চলেছেন।

সমস্ত প্রশংসা সমগ্র সৃষ্টি জগতের রব আল্লাহর জন্য।  (সূরা ফাতিহা:১)

বলো, আমি আশ্রয় প্রার্থনা করছি মানুষের রবের কাছে। (সূরা নাস:১)

তাওহিদ আল আসমা ওয়াসসিফাত এর অর্থ হলো নাম ও বৈশিষ্ট্যে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলার সমকক্ষ আর কেউই নাই।  আল্লাহর নাম ও বৈশিষ্ট্যগুলোকে আল্লাহ ও রাসূলুল্লাহ(সা) যেভাবে বলেছেন সেভাবেই আমাদের মেনে নিতে হবে। আল্লাহর কোনও বৈশিষ্ট্য মানুষের মধ্যে থাকলেও এই মিল কেবলমাত্র নামগত, গুণগত নয়। আল্লাহকে আল্লাহ নিজে এবং প্রিয়নবী(সা) যে নাম ও বৈশিষ্ট্যগুলো দিয়েছেন তার বাইরে নতুন নাম বা বৈশিষ্ট্য দেয়া যাবে না। কোনও সৃষ্ট বস্তু (মাখলুক) কে কোনও বৈশিষ্ট্যে আল্লার সমকক্ষ করা যাবে না।

তাঁর সমতুল্য কেউই নাই। – (সূরা ইখলাস ১১২:৪)

কোরআনের শুরু হয়েছে আল্লাহর নাম ও গুনাবলী বর্ণনা করে, কোরআন শেষও হয়েছে আল্লাহর নাম ও গুনাবলী বর্ণনা করে।

যিনি (আল্লাহ) অনন্ত করুনাময়, পরম দয়ালু। যিনি বিচার দিনের মালিক।  (সূরা ফাতিহা ১:৩-৪)

যিনি (আল্লাহ) মানুষের মালিক। (সূরা নাস ১১৪:২)

তাওহিদ আল  ‘ইবাদাহ বলতে বুঝায় যে এক আল্লাহ ছাড়া অন্য আর কারোরই ইবাদত করা যাবে না। শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়াহ (রহ) এর মতে, যে কোন বিশ্বাস, কথা বা কাজ যা আল্লাহকে খুশী করে তা-ই ইবাদত।

অন্যান্য ধর্মের মতো ইসলামে ইবাদত বলতে শুধু উপাসনা যেমন নামাজ, রোজা, যাকাত ইত্যাদি বোঝায় না। ইসলামে ইবাদত শব্দটির অর্থ অনেক ব্যাপক – ইবাদত বলতে বুঝায় ‘উপাসনা এবং দাসত্ব করা’ । ইবাদত শব্দটি এসেছে ‘আব্দ’ শব্দ থেকে। আব্দ শব্দের অর্থ হলো দাস। দাসের কাজ হলো তার প্রভু যা আদেশ করে সেই কাজ সম্পন্ন করা, আর তার প্রভু যা করতে নিষেধ করে সেই কাজ থেকে বিরত থাকা। কাজেই তাওহিদ-আল-ইবাদাহ বলে যে আমরা এক আল্লাহর আদেশ-নিষেধের উপর অন্য কিছুকেই অধিক গুরুত্ব দিব না। আমরা দাসত্ব করব না টাকা-পয়সার, দাসত্ব করব না কামনা-বাসনার, উপাসনা করব না কোনও মূর্তির বা ভাবমূর্তির। আমরা উপাসনা করব, দাসত্ব করব, আদেশ-নিষেধ মানব তথা ইবাদত করব শুধুই এক আল্লাহর।

যিনি (আল্লাহ) মানুষের উপাস্য। (সূরা নাস ১১৪:৩)

আমরা কেবল তোমারই ইবাদত করি এবং তোমারই কাছে সাহায্য চাই। (সূরা ফাতিহা ১:৫)

তাওহিদ-আল-‘ইবাদাহ imply করে তাওহীদ-আর-রবুবিয়াহকে। কারণ, আপনি তারই দাসত্ব কবুল করেন যাকে আপনি আপনার রব বা provider মনে করেন।  কিন্তু , তাওহিদ-আর-রবুবিয়াহ মোটেই তাওহিদ-আল-‘ইবাদাহকে imply করে না। কারণ, কোনো মানুষ কাউকে  provider হিসাবে স্বীকার করার পরেও তার অবাধ্য হতে পারে। উদাহরণের মাধ্যমে ব্যাপারটা বুঝা যাক।  আপনি অফিসে আপনার বসের সব কথা মেনে চলেন, তিনি যা করতে বলেন তা করেন, যা করতে নিষেধ করেন তা করেন না, আপনি তার আদেশ-নিষেধ মেনে চলেন – আপনার এসব কর্মকান্ডই প্রমাণ করে যে আপনি তাকে আপনার provider মনে করেন। অন্যদিকে, এমন হতে পারে যে আপনি থাকেন আপনার বাবার হোটেলে, আপনি ভালই জানেন যে আপনার provider আপনার বাবা, কিন্তু তারপরেও আপনি তার আদেশ-নিষেধ শুনেন না – পড়াশুনা ঠিক মতো করেন না, তার অপছন্দের মেয়ের সাথে প্রেম করেন, তবু মাস শেষে তিনি আপনাকে  হাত খরচ ঠিকই দিয়ে যান।

রাসূলুল্লাহ(সা) সুনান আবু দাউদের হাদিসে বলেছেন যে, ‘দু’আই হলো ইবাদত’। দু’আ শব্দটি এসেছে ‘দা’আ’ থেকে, যার অর্থ হলো ডাকা। কাজেই যখনই আমরা কোন গায়েবি কিছুকে ডাকব, তখনই আমরা সেই শক্তির কাছে আসলে দু’আ করছি, আর কারো কাছে দু’আ করা মানেই তার ইবাদত করা। তাওহীদ আল ‘ইবাদাহ বলে যে, এক আল্লাহ ছাড়া আর অন্য কোন গায়েবী শক্তিকেই আমরা সাহায্যের জন্য ডাকতে পারব না।

ইসলাম ধর্মে আল্লাহ্‌ এক বলতে উপরের তিন রকমের তাওহিদেই আল্লাহর একত্ববাদকে বুঝায়। এখন কেউ যদি বলে সে এক আল্লাহর উপর ঈমান (বিশ্বাস) এনেছে, তার প্রমান কি? প্রমান হলো তার কর্মে যেমন, আমি গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি যে আপনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন আগুনে হাত দিলে হাত পুড়ে যায়। প্রমান কি? প্রমান হলো যে আপনি আগুন জ্বলতে দেখলে হাত সরিয়ে নেন, কোনো বাচ্চাকে আগুনের দিকে দৌড়ে যেতে দেখলে সর্বশক্তি দিয়ে আপনি তাকে বাঁচাতে যাবেন, তাই না?

এবার তাহলে নিজের আমলনামার দিকে তাকিয়ে নিজেকে প্রশ্ন করে দেখুন, এক আল্লাহর উপর আসলে আপনি ঠিকভাবে ঈমান (বিশ্বাস) এনেছেন কিনা? আল্লাহর রবুবিয়াহতে ঈমান আনলে আপনি বিশ্বাস করবেন যে আপনার প্রান, সম্পদ, সময়, সন্তান থেকে শুরু করে সবকিছুই আল্লাহ্‌ আপনাকে কিছুদিনের জন্য ধার দিয়েছেন মাত্র, সময় হলেই নিয়ে নিবেন। তাই শত ব্যস্ততার মাঝেও নামাজের ওয়াক্ত হলে নামাজে দাড়িয়ে যাবেন, যাকাতের টাকা খরচ করতে কুন্ঠাবোধ করবেন না। আল্লাহর আসমা ওয়াসসিফাতে ঈমান আনলে সবকিছুতেই মনে মনে আল্লাহকে ডাকবেন কারণ আপনি বিশ্বাস করেন আল্লাহ্‌ আল-সামি’ (সর্বশ্রেষ্ঠ শ্রবণকারী), আল্লাহকে নিয়ে বিন্দুমাত্র কটাক্ষও সহ্য করতে পারবেন না কারণ আপনার দৃঢ় বিশ্বাস তিনি আল-কুদ্দুস (সবচেয়ে পবিত্র), বার বার তাঁর কাছে ক্ষমা চাইবেন কারণ আপনি বিশ্বাস করেন তিনি আল-‘আফুউ অর্থাৎ যিনি শুধু ক্ষমাই করেন না বরং আগের অপরাধের দাগগুলো পুরোপুরি মুছে ফেলেন! তাওহীদ আল ‘ইবাদায় ঈমান আনলে আপনি মানুষের সাথে ভালো ব্যবহার করবেন, সততার সাথে কাজ করবেন, মিথ্যা কথা বলা, সুদ-ঘুষ থেকে দূরে থাকবেন শুধু আল্লাহকে খুশী করার জন্য, মানুষের থেকে প্রতিদান পাওয়ার জন্য না।

তাওহীদ আল ‘ইবাদায় ঈমান আনার সবচেয়ে বড় প্রমাণ হলো নিয়মিত ৫ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা – কারণ এটা আল্লাহ্‌ সুবহানাহু ওয়া তা’আলার সবচেয়ে বড় হুকুম। আপনি যদি কোন কোম্পানীতে টাইপিষ্ট হিসাবে চাকরী পেয়ে থাকেন, আর আপনার বসের দেয়া সবচেয়ে বড় হুকুমটাই (টাইপ করা)  পালন না করেন, তাহলে কি আর চাকরী থাকবে?  

সূত্র:

১। তাওহীদের মূল নীতিমালা – ড. আবু আমিনাহ্‌ বিলাল ফিলিপ্স

২। Fundamentals of Faith – Dr. Yasir Qadhi

৩। Replacements – Lesson from Surah AL-Ikhlas – Nouman Ali Khan

এটা কি আল্লাহর পরীক্ষা না গজব?

savar

মাঝে মধ্যেই আমাদের দেশে বা দেশের বাইরে এমন কিছু ঘটনা ঘটে যা ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটা বিবেকবান মানুষকে নাড়া দেয়, মনুষ্যত্বের ভীতকে ধরে ঝাঁকুনি দেয়। এরকম ঘটনায় দেখায় যায় – হয়তো বহু মানুষ সুনামিতে মারা গেল, অথবা বিল্ডিং এর নিচে চাপা পড়ে মারা গেল, অথবা নিরপরাধ একটা শিশুকে মেরে ফেলা হলো, কিংবা কারো উপর গোপনে বছরের পর বছর অমানুষিক নির্যাতন হয়ে গেলো আর তার কিছুই করার ছিল না। এরকম ঘটনার চোখের সামনে দেখার পর, শুনার পর একটা প্রশ্ন অনেক ধার্মিকেরই মনে চলে আসে- কেউ তা প্রকাশ করে, আর কেউ প্রকাশ না করতে পারলেও মনের ভেতর ঠিকই পুষে রাখে। প্রশ্নটা হলো – আল্লাহ কেন এই নিরপরাধ মানুষগুলোকে এভাবে যন্ত্রণা দিলেন, কষ্ট দিলেন, মৃত্যু দিলেন? আল্লাহ যদি ন্যায়বিচারকই হবেন তো কেন তিনি এই পৃথিবীর দুর্নিতীবাজ, সন্ত্রাসী আর সাক্ষাৎ শয়তান মানুষগুলোর ওপর এরকম কঠিন শাস্তি (গজব) না পাঠিয়ে নিরীহ মানুষগুলোকে এই শাস্তি দিতে গেলেন?

ঠিক এই রকমের মুহুর্তগুলির জন্যই শয়তান অপেক্ষা করে। মানুষের ইসলামী জ্ঞানের অভাবকে কাজে লাগিয়ে শয়তান এই সুযোগে মানুষের কানে এসে ওয়াসওয়াসা (কুমন্ত্রণা) দিতে থাকে – “আল্লাহ থাকলে এগুলো হয় নাকি?”। শয়তানের এই ওয়াসওয়াসা থেকে রক্ষা পেতে হলে আমাদের উপরের প্রশ্নগুলির উত্তর জানা থাকতে হবে, আর উত্তরগুলো পাঠককে জানানোর উদ্দেশ্যেই আমার এই লেখা।

বিপদের প্রকারভেদ:
আল্লাহ আমাদেরকে যে বিপদগুলি দেন সেগুলি দুই ধরনের – এক হলো শাস্তি(যেটাকে আমরা অনেক সময় ‘গজব’ বলি) , আর দ্বিতীয়ত: হলো পরীক্ষা। আল্লাহ মানুষের উপর তখনই গজব পাঠান যখন মানুষ পাপ কাজ করে। অন্যদিকে, আল্লাহ মানুষকে পরীক্ষা করেন তার জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে, এই পরীক্ষা অনেক সময় সুবিধার আকারে আসে, আবার অনেক সময় আসে বিপদের আকারে ।

আল্লাহর গজব প্রসঙ্গে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা কোরআনে বলেন:
তোমার যা কিছু মঙ্গল হয় তা আল্লাহর তরফ থেকে আসে, কিন্তু তোমার যা কিছু অমঙ্গল হয় তা তোমার নিজের কারণে। – (সূরা নিসা:৭৯)

তোমাদের যে বিপদ-আপদ ঘটে তা তো তোমাদের কৃতকর্মেরই ফল এবং তোমাদের অনেক অপরাধ তিনি ক্ষমা করে দেন (অর্থাৎ না হলে তোমাদের আরো অনেক বিপদ আসত)। – (সূরা শূরা:৩০)

আল্লাহর পরীক্ষা সম্বন্ধে রাসূলুল্লাহ(সা) বলেন:
আল্লাহ যখন কাউকে ভালবাসেন, তখন তাকে পরীক্ষা করেন। যার ধৈর্য আছে সে ধৈর্য ধরবে, আর যে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত সে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হবে। (আহমাদ)

গজব না পরীক্ষা কিভাবে বুঝব:
যদি আপনি আল্লাহর কোনও হুকুম পালন করতে যেয়ে বিপদের সম্মুখীন হোন তো এটা পরীক্ষা। যেমন: আপনি ইসলামের কথা প্রচার করতে গেলে কেউ যদি আপনাকে হেয় করে, আপনি সততা বজায় রেখে কাজ করতে যেয়ে যদি কোনো বিপদে পড়েন, আল্লাহকে খুশী করার জন্য যদি খুব প্রিয় কোন বন্ধুকে ছেড়ে দিতে হয়, আল্লাহর হুকুম পালনের জন্য যদি সুদী ব্যাঙ্ক থেকে টাকা তুলে নেন ইত্যাদি। এই সব বিপদে ধৈর্য ধরার জন্য আপনি অনেক সওয়াব পাবেন এবং আপনার গুনাহ মাফ হবে।

রাসূলুল্লাহ(সা) বলেন: মু’মিনের ব্যাপারটা আশ্চর্যজনক, তার সাথে যা ঘটে তা-ই তার জন্য কল্যাণকর। যখন আনন্দদায়ক কিছু ঘটে তখন সে আল্লাহকে শুকরিয়া জানায় এবং এটা তার জন্য আরো ভালো হয়। এবং যখন তার কোনো বিপদ হয় তখন সে ধৈর্য ধরে এবং এটা তার জন্য আরো ভালো হয়। আর এরকম হয় শুধুমাত্র মু’মিনের ক্ষেত্রে। – (সহীহ মুসলিম) 

অন্যদিকে, যদি আপনি কোনও পাপ কাজ করতে যেয়ে বিপদে পড়েন তাহলে এটা আল্লাহর গজব। যেমন আপনি যদি ঘুষ খেতে যেয়ে ধরা পড়েন, ব্যভিচার করার ফলে কোন অসুখে আক্রান্ত হন বুঝবেন আপনার উপর আল্লাহর গজব পড়েছে।

আবার, একই ঘটনা একজনের জন্য গজব আর আরেকজনের জন্য পরীক্ষা হতে পারে। যেমন – রানা প্লাজার বিল্ডিং ধস  দুর্নিতীবাজ মালিকের জন্য গজব, অন্যদিকে গার্মেন্টস কর্মীদের জন্য হয়তো আল্লাহর তরফ থেকে পরীক্ষা।

আল্লাহ নিরপরাধ মানুষগুলোকে এত কঠিন পরীক্ষায় ফেললেন কেন?
সবচেয়ে সহজ উত্তর হলো আল্লাহ তাদের মঙ্গল চান তাই। ঠিক যেমন, আপনার বাচ্চাকে যখন টিকা দিতে আপনি ডাক্তারের কাছে নেন তখন সে মনে করে যে ডাক্তার তাকে ব্যথা দিতে চাচ্ছে, তার ক্ষতি করতে চাচ্ছে, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে ডাক্তার তার ভালো চায়। আপনি যেমন দীর্ঘমেয়াদের ভালো স্বাস্থ্য দেয়ার জন্য আপনার বাচ্চাটাকে সাময়িকভাবে এই কষ্টের মধ্যে ফেলেন, আল্লাহও ঠিক তেমনি ভাবে মু’মিন বান্দাদের এবং অনেক ক্ষেত্রে অবুঝ শিশুদেরকেও ভয়ংকর অসুখ দেন, কষ্ট দেন – এর ফলে তারা এই ক্ষয়িষ্ণু পৃথিবীতে কিছুদিনের জন্য কষ্ট করবে, কিন্তু এর বিনিময়ে হয়ত পাবে চিরস্থায়ী জান্নাত। একইভাবে, দুর্ঘটনায় পড়ে যে সব মুসলমান ভাই-বোন নিহত হয়েছেন ইনশাআল্লাহ তাঁরা শহীদের মর্যাদা পাবেন এবং পরকালে জান্নাতবাসী হবেন।

রাসূলুল্লাহ(সা) বলেন: কোনও ঈমানদারের উপর যখন কোনো ক্লান্তি, অসুখ, দু:খ, বেদনা, আঘাত, যন্ত্রণা আসে, এমনকি তার যদি একটা কাঁটার খোঁচাও লাগে – এর জন্যও আল্লাহ তার কিছু গুনাহ মাফ করে দেন। – (সহীহ বুখারী)

আমরা মানুষেরা আল্লাহর অবাধ্যতা করে প্রতিদিনই অসংখ্য পাপ করছি। আল্লাহ চান আমাদেরকে পাপমুক্ত করে জান্নাত দিতে, নিজের ও অন্য মানুষের বিভিন্ন বিপদ, অসুখ-বিসুখ দেখিয়ে মৃত্যুকে স্মরণ করিয়ে দিতে। মানব জীবনের সফলতা কোটিপতি হওয়ার মধ্যে না, বড় কোম্পানীতে চাকরি করার মধ্যে না, বা শত বছর বেঁচে থাকার মধ্যেও না। মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় সফলতা হলো জীবনের প্রতিটা ক্ষেত্রে আল্লাহর হুকুম মেনে চলা, আর এর ফলস্বরূপ পরকালে জান্নাত পাওয়া।

প্রত্যেক প্রাণকেই মরণের স্বাদ নিতে হবে। কেয়ামতের দিন তোমাদের কর্মফল পুরো করে দেয়া হবে। যাকে আগুন থেকে দূরে রাখা হবে ও জান্নাতে যেতে দেওয়া হবে সে-ই সফলকাম। আর পার্থিব জীবন তো ছলনাময় ভোগ ছাড়া আর কিছুই নয়। – (সূরা আল-ই-ইমরান:১৮৫)

কাজেই আপাত:দৃষ্টিতে আমাদের কাছে যদিও মনে হচ্ছে এই নিরীহ মানুষগুলির উপর কঠিন বিপদ এসে পড়েছে, কিন্তু আসলে হয়তো এর মাধ্যমে আল্লাহ আমাদের এই ভাই-বোনদেরকে বাকীজীবনের কষ্ট থেকে মুক্তি দিচ্ছেন এবং জান্নাত দিচ্ছেন। আর যারা আহত হয়েছেন, মৃত্যুর সাথে লড়াই করছেন, আল্লাহ তাদের সব গুনাহ মাফ করে হয়তো তাদের নিষ্পাপ করে দিচ্ছেন।

রাসূলুল্লাহ(সা) বলেছেন – যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় নিহত হয় সে শহীদ, যে ব্যক্তি ভবন ধ্বসে মারা যায় সে শহীদ, যে ব্যক্তি মহামারীতে মারা যায় সে শহীদ, যে ব্যক্তি পেটের পীড়ায় মারা যায় সে শহীদ, যে ব্যক্তি পানিতে ডুবে মারা যায় সে শহীদ।  
(মুসলিম, মিশকাতঃ ৩৮১১, সহীহুল জামেঃ ৬৪৪৯)

শেষ কথা:
সব কথার বড় কথা হলো আল্লাহ যা জানেন আমরা তা জানি না, তাই তিনি যা করেন তার সব কিছুর মর্মার্থ আমাদের বুঝা সম্ভব না। কিন্তু, তিনি আমাদের সৃষ্টিকর্তা, প্রতিপালক। কাজেই সর্বোপরী যেটা মানুষের জন্য কল্যানকর তিনি তা-ই করে থাকেন।

আমাদের দায়িত্ব হলো যারা দুর্ঘটনাকবলিত তাদেরকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা, জীবিত ও মৃতদের জন্য দু’আ করা, দোষী ব্যক্তিদের যাতে শাস্তি হয় সেই পদক্ষেপ নেয়া । আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন হলো এই মানুষগুলোর কষ্ট, মানুষগুলোর মৃত্যু থেকে শিক্ষাগ্রহণ করা। আমি-আপনিও একদিন সকালে হয়তো ওদের মতোই কাজ করতে বের হয়ে আর বাসায় ফিরবো না, সরাসরি চলে যাবো কবরে, শুরু হয়ে যাবে জীবনের প্রতিটা কাজের বিচার, প্রতিটা অংগের বিচার, প্রতিটা মূহুর্তের বিচার।
একটি হাদিস বলে লেখাটি শেষ করবো। হাদিসটা আপনাকে বলে দিবে যে, জাহান্নামের এক মূহুর্তের আযাব দুনিয়ার সারা জীবনের আনন্দ-উল্লাস ভুলিয়ে দেয়ার জন্য যথেষ্ট, আর জান্নাতের এক মূহুর্তের শান্তি দুনিয়ার সারা জীবনের দু:খ-কষ্টকে ভুলিয়ে দেয়ার জন্য যথেষ্ট।

আনাস ইবনে মালিক (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ(সা) বলেন যে, পুনরুত্থানের দিন এমন একজন ব্যক্তিকে আনা হবে যে পৃথিবীতে আরাম-আয়েশ এবং প্রাচুর্যতার মধ্যে জীবন কাটিয়েছিল কিন্তু এখন সে জাহান্নামের বাসিন্দা হবে। এই লোকটিকে একবার মাত্র জাহান্নামের আগুনে ডুবানো হবে এবং জিজ্ঞেস করা হবে: হে আদমসন্তান! তুমি কি (দুনিয়াতে) কোনও শান্তি বা কোনও সম্পদ পেয়েছিলে? সে উত্তর দিবে: আল্লাহর কসম! না, ও আমার রব!
এবং এরপর এমন একজন ব্যক্তিকে আনা হবে যে জান্নাতের বাসিন্দা কিন্তু সে পৃথিবীতে সবচেয়ে দুর্বিষহ জীবন কাটিয়েছিলো। এই লোকটিকে জান্নাতে একবার মাত্র ডুবানো হবে এবং তাকে জিজ্ঞেস করা হবে: হে আদমসন্তান! তুমি কি (দুনিয়াতে) কোনও কষ্টের মধ্যে ছিলে? সে বলবে: আল্লাহর কসম! না, ও আমার রব! আমি দুনিয়াতে কখনোই কোনো কষ্টের সম্মুখীন হইনি বা কোনো দুর্দশায় পড়িনি। – (সহীহ মুসলিম)

প্রাসংগিক পাঠ্য:

http://islamqa.info/en/ref/148735