সূরা ইউসুফ থেকে পাওয়া ১২টি লাইফ লেসন – পর্ব ২ – লক্ষ্য অর্জন

[সূরা ইউসুফ শুধু নবী ইউসুফ(আ) এর এক্সাইটিং লাইফ স্টোরিই নয়, অসংখ্য শিক্ষনীয় বিষয় আছে এই সূরাতে। চার পর্বের এই লেখায় আমি সূরা ইউসুফ থেকে পাওয়া অসংখ্য লাইফ লেসনের মধ্য থেকে ১২টা লাইফ লেসন শেয়ার করবো। আপনি ইসলাম প্র্যাকটিস করুন আর না-ই করুন, আশা করি লেখাটি আপনার কাজে আসবে।

পর্ব-১ এ আমি ৪টি লাইফ লেসন শেয়ার করেছিলাম। পর্ব-১ এর শেষে আমরা দেখেছিলাম যে মহা সুদর্শন ইউসুফকে ক্রমাগত কুপ্রস্তাব দিয়ে যাচ্ছিলো মন্ত্রীর স্ত্রী। আর ইউসুফ সেই প্রস্তাব প্রত্যাখান করে আল্লাহর কাছে এই অবস্থা পরিবর্তনের জন্য দু’আ করেছিলেন।]

৫) গুরুত্বের ক্রমানুসারে কাজ করুন (Prioritize your tasks):

5. prioritize

মনে করুন আপনার কাছে একটা কাঁচের বয়াম আছে, আর আছে কিছু পাথর, নুড়ি আর বালু; আপনার লক্ষ্য হলো বয়ামে যত বেশী সংখ্যক সম্ভব পাথর ঢুকানো। এখন আপনি যদি প্রথমেই নুড়ি আর বালু দিয়ে আপনার বয়ামটি ভরে ফেলেন তাহলে কিন্তু আর খুব বেশী পাথর ঢুকানোর জায়গা পাবেন না। কিন্তু, আপনি যদি পাথরগুলিকে ঢুকিয়ে নেন তাহলেও নুড়ি আর বালুগুলি ঢুকানোর মত জায়গা ঠিকই অবশিষ্ট থাকবে।

একইভাবে আমাদের করণীয় কাজগুলোকে আমরা গুরুত্বের ক্রমানুসারে সম্পন্ন করবো। প্রতিদিন সকালে কাজের একটা লিষ্ট করে ফেলব, তারপর তাদেরকে গুরুত্বের ক্রম অনুসারে সাজাবো। প্রতিটা কাজ করতে কতক্ষণ সময় লাগতে পারে সেই অনুযায়ী পাশে বরাদ্দ সময় লিখবো। তারপর ১ নং কাজ শেষ না করে কিছুতেই ২ নং কাজে যাবো না। তবুও হয়তো দেখা যাবে যে দিন শেষে ফেইসবুক, টুইটার আর ইউটিউব করার মত সময় আমাদের হাতে ঠিকই আছে।

মন্ত্রীর স্ত্রীর কুপ্রস্তাবে রাজী না হওয়ায় মিথ্যা অভিযোগে তাকে জেলে পাঠানো হলো। জেলে ইউসুফ(আ) এর আচার-ব্যবহারের উৎকর্ষতা দেখে তাঁর জেলসঙ্গীরা অভিভূত হলো। তারা বুঝতে পারলো ইউসুফ সাধারণ কোনো মানুষ নন, তাঁর মধ্যে বিশেষ কিছু একটা আছে। দুই জেলসঙ্গী তাদের সদ্য দেখা স্বপ্ন নিয়ে খুব চিন্তিত ছিলো। তারা ইউসুফের কাছে তাদের স্বপ্নের ব্যাখা জানতে চাইলো। ইউসুফ কিন্তু সাথে সাথেই তাদের কাছে স্বপ্নের ব্যাখা দিয়ে দেননি। ইউসুফের কাছে সবচাইতে গুরুত্বপূর্ন ছিলো তাদেরকে এক আল্লাহর দিকে আহবান করা, তাদেরকে বুঝানো যে তাঁর এই চারিত্রিক উৎকর্ষতার কারণ হলো তিনি মানুষের সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে নয়, আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে কাজ করেন। তিনি আরো বললেন যে স্বপ্নের ব্যাখা তিনি খাবার আসার কিছুক্ষণ আগে দিবেন। তার আগের সময়টুকু তিনি তাদেরকে বোঝালেন – আমাদের মেধা থেকে শুরু করে সমস্ত কিছুই হলো আল্লাহর অনুগ্রহ, তাঁর ইচ্ছা ছাড়া কোনও কিছুই হয় না।

ইউসুফ বললো, তোমাদেরকে যে খাবার দেয়া হয় তা আসার আগে আমি তোমাদেরকে স্বপ্নের ব্যাখা জানিয়ে দিব, এ জ্ঞান আমার রব যা শিক্ষা দিয়েছেন তারই অন্তর্ভুক্ত। যে সম্প্রদায় আল্লাহকে বিশ্বাস করে না ও পরলোক অবিশ্বাস করে আমি তাদের মতবাদ বর্জন করেছি। (১২:৩৭)

লাইফ স্কিল কোচেরা প্রোডাক্টিভিটি বাড়ানোর জন্য ‘80 20 Principle’ এর কথা বলে থাকেন [৮]। ‘80 20 Principle’ বলে আমরা যে বিষয় নিয়ে কাজ করছি সেটার দিকে যদি লক্ষ্য করি তাহলে দেখব যে প্রজেক্টটার ৮০% কাজ ২০% মূল্য বহন করে আর ২০% কাজ ৮০% মূল্য বহন করে। আমরা যদি সেই মূল্যবান ২০% কাজগুলো শনাক্ত করে প্রথমেই সম্পন্ন করে ফেলতে পারি, তাহলে আমরা দেখব নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই আমাদের পুরো প্রজেক্টটি প্রায় শেষ হয়ে গেছে।

প্রোডাক্টিভিটি বাড়ানোর আরেকটি টিপস হলো আর্জেন্ট-ইম্পর্ট্যান্ট ফর্মূলা [৮]। আর্জেন্ট হলো সেই কাজগুলি যা সম্পন্ন করতে হলে এখুনি করতে হবে, ইম্পর্টেন্ট হলো সেই কাজ যা সম্পন্ন করতে না পারলে ক্ষতি হবে । আমাদের দৈনন্দিন কাজগুলো চার ভাগে ভাগ করা যায়:

  1. আর্জেন্ট এবং ইম্পর্ট্যান্ট (যেমন – ১ দিনের মধ্যে যে প্রজেক্টের রিপোর্ট দিতে হবে),
  2. আর্জেন্ট কিন্তু ইম্পর্ট্যান্ট না (যেমন – টিভিতে লাইভ খেলা দেখা),
  3. ইম্পর্ট্যান্ট কিন্তু আর্জেন্ট না (যেমন – জগিং করা),
  4. ইম্পর্ট্যান্টও না এবং আর্জেন্টও না (যেমন – মানুষের বদনাম করে বেড়ানো)।

১নং গ্রুপের কাজগুলি আমাদের ভালো মতো সম্পন্ন করতেই হবে কারণ অন্য কোনো উপায় নাই; ২নং গ্রুপের কাজগুলি কমিয়ে আনতে হবে; ৩নং গ্রুপের কাজগুলিকে জোর করে হলেও করতে হবে (না হলে অচিরেই এটা ১নং গ্রুপের কাজে পরিণত হবে), মনে রাখবেন চরমভাবে সফল মানুষেরা ৩নং গ্রুপের কাজগুলো গুরুত্বের সাথে করে বলেই তারা সফল; আর ৪নং গ্রুপের কাজগুলি পুরোপুরি বাদ দিতে হবে।

৬) তাড়াহুড়া করবেন না (Do not rush):

6. slow down

আমরা অনেকে মনে করি যে তাড়াহুড়া করে কাজ করলে বুঝি অনেক বেশী কাজ করা যায়। কিন্তু, সত্য হলো ধীর-স্থিরতার সাথে কাজ করলে আমরা নির্ভুলভাবে কাজ সম্পন্ন করতে পারি, ফলে আমাদের সময় বাঁচে। রাসূলুল্লাহ(সা) বলেছেন, ‘ধীর-স্থিরতা আসে আল্লাহর তরফ থেকে আর তাড়াহুড়া আসে শয়তানের তরফ থেকে’ (বায়হাকী)।

মনে করুন আপনাকে বিনা দোষে ৭ বছর ধরে জেলে আটকে রাখা হয়েছে। তারপর জানতে পারলেন রাষ্ট্রপতি তার বিশেষ ক্ষমতাবলে আপনাকে মুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন। আপনি তখন কি করবেন? নিশ্চয়ই লাফাতে লাফাতে আগে জেল থেকে বের হবেন, তাই না? কিন্তু, ইউসুফ এরকম তাড়াহুড়া করেননি। রাজার স্বপ্নের সঠিক ব্যাখা দিতে পারার পুরষ্কার স্বরুপ রাজা যখন ইউসুফকে মুক্ত করার নির্দেশ দিলেন তখনও ইউসুফ ধৈর্য ধরেছেন। কারন, এই রকম বিশেষ ক্ষমতাবলে মুক্তির প্রতি ইউসুফের কোনো মোহ ছিলো না। যে অপরাধে তাকে বন্দী করা হয়েছিলো তিনি রাজার কাছে তার পুনর্তদন্ত দাবী করলেন। ইউসুফ আত্মবিশ্বাসী ছিলেন নিরপেক্ষ তদন্ত হলে এটা প্রমাণিত হবে যে তিনি মন্ত্রীর স্ত্রীর সাথে জোর-জবরদস্তি করে কিছু করতে চাননি। আর এর ফলে ইউসুফের মর্যাদা বাড়বে বৈ কমবে না।

রাজা বললো, ‘তোমরা ইউসুফকে আমার কাছে নিয়ে এসো’। সুতরাং যখন দূত তার কাছে গেলো সে বললো, ‘তুমি তোমার প্রভুর কাছে ফিরে যাও এবং তাকে জিজ্ঞেস করো, যে মহিলারা তাদের হাত কেটে ফেলেছিলো তাদের অবস্থা কি? আমার রব তাদের ছলনা সম্পর্কে ভালো করেই জানেন’। (১২:৫০)

ইউসুফ নির্দোষ প্রমাণ হওয়ার পর রাজা যখন তাকে সহচর নিযুক্ত করতে চাইলেন তখনো ইউসুফ তাড়াহুড়া করে সেই পদ গ্রহণ করলেন না। বরং, তিনি কোষাধ্যক্ষ হতে চাইলেন। কারন, মিশর রাজ্য যে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের সম্মুখীন হতে যাচ্ছে তা ইউসুফের মত দূরদর্শী শাসক ছাড়া সামাল দেয়া দু:সাধ্য হয়ে পড়বে।

রাজা বললো, ‘ইউসুফকে আমার কাছে নিয়ে এসো, আমি তাকে আমার একান্ত সহচর নিযুক্ত করবো’। তারপর রাজা যখন তার সাথে কথা বললো তখন বললো, ‘আজ তুমি আমাদের কাছে মর্যাদাবান ও বিশ্বাসভাজন’। সে বললো, ‘আমাকে দেশের কোষাধ্যক্ষ নিযুক্ত করুন। নিশ্চয়ই আমি সুসংরক্ষণকারী, সুবিজ্ঞ’। (১২:৫৪-৫৫)

৭) গাজর ও লাঠিকে মনে রাখুন (Remember the carrot and the stick):

7. carrot and stick

জন্মের মুহূর্ত থেকে শুরু করে মৃত্যু পর্যন্ত মানুষ তার প্রতিটা কাজই করে হয় গাজর পাওয়ার জন্য অথবা লাঠির বাড়ি এড়িয়ে যাওয়ার জন্য। অন্যভাবে বলতে গেলে, মানুষ সব সময় সেই কাজটিই করে যেই কাজটি করলে তার বেদনার (pain) চেয়ে আনন্দের (pleasure) পরিমান বেশী হবে। উদাহরণস্বরুপ বলা যায় ভালো ছাত্র পড়াশুনার কষ্ট বেছে নেয়, কারণ তার কাছে এই কষ্টের চেয়ে ভালো চাকুরীর আনন্দ বেশী গুরুত্বপূর্ন। আবার, খারাপ ছাত্র পড়াশুনায় ফাঁকি মেরে সিনেমা দেখে সময় কাটায়, কারণ তার কাছে ভালো চাকুরী না পাওয়ার কষ্টের চেয়ে সিনেমা দেখার আনন্দের মূল্য বেশী। আনন্দ-বেদনার এই সহজাত প্রতিক্রিয়াকে আমরা আমাদের লক্ষ্য অর্জনের জন্য কাজে লাগাতে পারি। যখন কোন গুরুত্বপূর্ন কাজ করতে আমাদের ভালো লাগবে না তখন আমরা এই কাজে ব্যর্থ হওয়ার কষ্ট এবং সফল হওয়ার আনন্দ নিজেকে মনে করিয়ে দিতে পারি। আবার, আগামী একঘন্টায় এই কাজটি শেষ করতে পারলে অমুক খাবারটি খাবো – এই জাতীয় আনন্দদায়ক টোপ দিয়েও নিজেকে কাজে মনোযোগী করে তুলতে পারি।

ইউসুফ(আ) মিশরের রাজার কোষাধ্যক্ষ নিযুক্ত হওয়ার প্রায় ৭ বছর পর মিশর ও কানআনে (বর্তমান ইসারাইল-ফিলিস্তিন) শুরু হয় চরম দুর্ভিক্ষ। ইউসুফ(আ) এর দূরদর্শীমূলক সিদ্ধান্তের কারণে মিশরে খাদ্যের কোনো অভাব দেখা দেয়নি। পাশের দেশ কানআন থেকে ইউসুফ(আ) এর বড় ১০ ভাইয়েরা খবর পেল যে মিশরের কোষাধ্যক্ষ নাকি খুবই দয়ালু মানুষ। তারা ভাবলো তার কাছে যেয়ে বিভিন্ন মালপত্রের বিনিময়ে যদি খাবার নিয়ে আসা যায় তাহলে কতই না ভালো হয়। সেই আমলে এক দেশের মানুষ অন্য দেশে আসলে তাদেরকে সবাই সন্দেহের চোখে দেখত। তবু তারা কোষাধ্যক্ষের সুনাম আর নিজেদের নিরুপায় খাদ্যহীন অবস্থা বিবেচনা করে মিশরে আসলো।

প্রায় ৪০ বছর পর দেখা, তবু বড় ভাইদের দেখেই ইউসুফ তাদের চিনতে পারলেন, যদিও তারা ইউসুফকে চিনতে পারলো না। ১০ সৎ ভাইকে চোখের সামনে দেখে ইউসুফের মনে পড়ে গেল তাঁর আপন ছোট ভাই বিনি ইয়ামিনের কথা – না জানি বড় ভাইদের কত অত্যাচার সহ্য করে থাকতে হচ্ছে ছোট ভাইটাকে! বাবা ইয়াকুব(আ) তো এতদিনে নিশ্চয়ই আরো বৃদ্ধ হয়ে গেছেন, বিনি ইয়ামিনের উপর কোনো অত্যাচার হলে তিনি তো আর বাধাও দিতে পারেন না। ইউসুফ প্ল্যান করলেন কিভাবে এই ১০ ভাইকে বলা যায় বিনি ইয়ামিনকে তারা যাতে পরের বার অবশ্যই নিয়ে আসে। আর, এই প্ল্যানে তিনি ব্যবহার করলেন গাজর এবং লাঠি। ইউসুফ তাদেরকে এই বলে লোভ দেখালেন, দেখো তোমরা যদি তোমাদের সৎ ভাইকেও নিয়ে আসো তাহলে কিন্তু আরো বেশী শস্য পাবে (কারণ, মাথা গুনে শস্যের হিসাব করা হচ্ছিল)। আর ভয় দেখালেন এই বলে – যদি ঐ ভাইকে তোমরা পরের বার নিয়ে আসতে না পারো তাহলে এটা প্রমাণিত হবে যে তোমরা বেশী শস্য আদায় করার জন্য ঐ ভাইয়ের কথা বানিয়ে বলছিলে, ফলে তোমাদেরকে আর শস্য দেয়া হবে না।

আর সে (ইউসুফ) যখন ওদের রসদের ব্যবস্থা করে দিল তখন সে বলল, ‘তোমরা আমার কাছে তোমাদের সৎ ভাইকে নিয়ে এসো। তোমরা কি দেখছ না যে আমি পুরো মাপ দেই? আর আমি অতিথির সেবা ভালোই করি? কিন্তু তোমরা যদি তাকে আমার কাছে না নিয়ে আস তবে আমার কাছে তোমাদের জন্য কোনো রসদ থাকবে না, আর তোমরাও আমার কাছে আসবে না। (১২:৫৯-৬০)

৮) এক ভুল দুই বার করবেন না (Don’t repeat your mistake):

8. Repentance

আমরা যদি আমাদের দৈনন্দিন কাজকর্ম গুলোর দিকে তাকাই তাহলে দেখতে পাবো যে আমরা একই ভুল বার বার করতে থাকি। শুধু তাই না, একই ভুল বারবার করে আমরা ভিন্ন ফলাফলেরও আশা রাখি! চিন্তা করে দেখুন, আপনার বসের সাথে কথা বলতে গিয়ে একই ভুল এপ্রোচ একাধিক মিটিং-এ প্রয়োগ করেছেন কিনা, আপনি যে ডকুমেন্ট লিখেন তাতে একই বানানে বার বার কনফিউজড হয়ে যান কিনা? একই ভুল বার বার করলে আপনি খুব সম্ভবত: একই রেজাল্ট পাবেন, ভালো কিছু পাবেন না।

নিজের ভুল শুধরানোর জন্য সহজ এই পদ্ধতিটি প্রয়োগ করে দেখতে পারেন: প্রতিদিন কি ভুল করছেন তা এক জায়গায় লিখে রাখুন। তারপর গত সাত দিনে কি কি ভুল করেছেন সেগুলো পড়ুন। আপনি লক্ষ্য করবেন যে একই ভুল আপনি সপ্তাহে একাধিকবার রিপিট করেছেন। হাই-ফ্রিকোয়েন্সী ভুলগুলো থেকে নিজেকে শুধরানো শুরু করুন, দৃঢ় প্রতিজ্ঞ হউন যে ভুলগুলো রিপিট করবেন না।

ইউসুফ(আ) এর ভাইয়েরা মিশর থেকে ফিরে এসে তাদের বাবা ইয়াকুব (আ) কে বললো তারা বিনি ইয়ামিনকে মিশরে নিয়ে যেতে চায়। কারণ, বিনি ইয়ামিনকে নিয়ে না গেলে মিশরের কোষাধ্যক্ষ আর শস্য দিবেন না। ইয়াকুব জবাবে বললেন – তোমরা কি মনে করো ইউসুফকে তোমাদের সাথে দিয়ে আমি যে ভুল করেছিলাম সেই ভুল আমি বিনি ইয়ামিনের ক্ষেত্রেও করবো?

সে বললো, ‘আমি কি ওর ব্যাপারে তোমাদেরকে এমনই বিশ্বাস করবো যেমন ওর ভাইয়ের ব্যাপারে এর পূর্বে আমি তোমাদেরকে বিশ্বাস করেছিলাম’? (১২:৬৪)

ভুল থেকে শিক্ষাগ্রহণ করা ইসলামী জীবন ব্যবস্থার অন্যতম স্তম্ভ। ইসলামী পরিভাষায় একে বলে তাওবা (ফিরে আসা)। জীবনে সফলতার অন্যতম চাবিকাঠি হলো তাওবা। কারণ, তাওবাকারী তার তাওবার মাধ্যমে প্রমাণ করে যে সে নিজের পরিবর্তন চায়, উন্নতি চায়। তাওবা পানি ঢেলে দেয় অহংকার আর গোয়ার্তুমির আগুনে। একটি পরিপূর্ন তাওবার বৈশিষ্ট্য হলো:

  • ভুল কাজটি দ্রুত ছেড়ে দেয়া
  • অনুশোচনা বোধ করা,
  • ভুলটির পুনরাবৃত্তি না করা এবং
  • এই ভুলে কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকলে তাকে তার প্রাপ্য বুঝিয়ে দেয়া।

আমরা যখন আমাদের ভুল থেকে শিক্ষাগ্রহণ করবো তখন আমাদের প্ল্যানগুলি ফ্লেক্সিবল হবে। যদি প্ল্যান ‘এ’ কাজ না করে তাহলে আমরা প্ল্যান ‘বি’ তে চলে যাবো।  যদিও খুব সহজে লক্ষ্যের পরিবর্তন করা ঠিক নয়, কিন্তু লক্ষ্য অর্জনের যে প্ল্যান তা প্রয়োজন অনুযায়ী আমরা পরিবর্তন করতে পারি।

[শেষ চারটি লেসন পর্ব-৩পর্ব-৪ এ প্রকাশিত হবে ইনশাআল্লাহ]

রেফারেন্স:

1. Pearls from Sura Yusuf – Dr. Yasir Qadhi

2. Leadership Lessons from the Life of Rasoolullah (SAW) – Mirza Yawar Baig

3. তাফসীর ইবনে কাথির

4. আহসানুল বায়ান

5. Anger Management – Dr. Yasir Qadhi

6. Notes from a Friend  – Anthony Robbins

7. The Strangest Secret – Earl Nightingale

8. Focal Point – Brian Tracy

5 thoughts on “সূরা ইউসুফ থেকে পাওয়া ১২টি লাইফ লেসন – পর্ব ২ – লক্ষ্য অর্জন

  1. পিংব্যাকঃ সূরা ইউসুফ থেকে পাওয়া ১২টি লাইফ লেসন – পর্ব ১ – লক্ষ্য নির্ধারণ | চিন্তাশীল মুসলিমের ব্লগ

  2. পিংব্যাকঃ সূরা ইউসুফ থেকে পাওয়া ১২টি লাইফ লেসন – পর্ব ৩ – সম্পর্ক উন্নয়ন | চিন্তাশীল মুসলিমের ব্লগ

  3. পিংব্যাকঃ সূরা ইউসুফ থেকে পাওয়া ১২টি লাইফ লেসন – ৪র্থ ও শেষ পর্ব – চূড়ান্ত সাফল্য | চিন্তাশীল মুসলিমের ব্লগ

  4. পিংব্যাকঃ সূরা ইউসুফ থেকে পাওয়া ১২টি জীবনঘনিষ্ঠ শিক্ষা (২): মাথা ঠান্ডা রেখে সামনে এগিয়ে যান | আমার স্পন্দন

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s